nav-icon.png
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাফিয়া গাজী বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট
May 15, 2017
Download Attachment


 

প্রথম আলো ১২তম নাফিয়া গাজী বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে অতিথিরা। ছবিটি আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তন থেকে তোলা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আজ শুক্রবারের সন্ধ্যাটা যেন এক টুকরো সংসদ। স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলছে। এক পাশে সরকারদলীয় সাংসদেরা, অন্য পাশে বিরোধী দল। আছেন প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা-উপনেতা। যুক্তিতর্ক-বক্তৃতা চলছে, একই সঙ্গে চলছে মুহুর্মুহু করতালি।

এমনই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক সংসদীয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘প্রথম আলো ১২তম নাফিয়া গাজী আন্তবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’। চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ মনে করে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংস্কৃতি এলিটদের দখলে’। সরকারি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভারনাবিলিটি স্টাডিজের শিক্ষার্থীদের দল। আর বিরোধী দলে ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন সরকারি দল। তবে শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন বিরোধীদলীয় প্রধান আবু বকর সিদ্দিক। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। মোট ৪০টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী নাফিয়া গাজী ১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি একজন বিতার্কিক ছিলেন। তাঁর স্মরণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা চালু করে ডিইউডিএস। প্রতি দুই বছর পরপর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ১২তম আসরে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রথম আলো।

বিতর্ক শেষে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘একটা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি খণ্ডন করে আমরা শেষ পর্যন্ত যে জায়গায় পৌঁছাই, সেটিই হচ্ছে সত্য ও বাস্তবতার জায়গা, যেখান থেকে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত কাজই হচ্ছে সত্য অনুসন্ধান করা।’ তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে যেখানে জ্ঞানের বিস্তার ঘটেছে, সব জায়গায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেরা তর্ক করেন, বিতর্ক করেন এবং চিন্তাভাবনা করেন। সেখানে পেশিশক্তির কোনো স্থান নেই। আর যেসব দেশে গণতন্ত্র এখনো বিকশিত রূপ নেয়নি, জ্ঞানের আলো বিকশিত হয়নি, সেখানে পেশিশক্তির প্রভাব রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এ দেশেও সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। এ জন্য স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব জায়গায় বিতর্ককে প্রাধান্য দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সাবেক বিতার্কিক বীরূপাক্ষ পাল। তিনি বলেন, ‘যেকোনো শিল্পের একটা প্রাতিষ্ঠানিক দিক দরকার। যেটা বিতর্কের নেই। বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বিভাগ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা সেটার জন্য প্রস্তুত নই। এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। বিতর্কের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। গবেষণালব্ধ প্রকাশনা বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নানান দিকে নজর চলে গেছে। ফেসবুকিং, ইলেকট্রনিক ডিস্ট্রাকশন হচ্ছে। প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের চর্চা কমে গেছে। এটা বিতার্কিকদের ব্যর্থতা, অন্যরা মানুষকে বেশি টানছে। বিতর্ক ততটা টানছে না। এ জন্য বাধ্যতামূলক অধ্যয়ন বাড়াতে হবে। ইংরেজি বিতর্ক বাড়াতে হবে।’

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, বিতর্কে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের অভিনন্দন। তবে দ্বিগুণ অভিনন্দন পাবেন তাঁরা, যাঁরা হাসিমুখে পরাজয়কে বরণ করে নিতে পারেন। এখানে অংশগ্রহণ করাটাই মুখ্য। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হওয়াটা গৌরবের। এখানে বিজয়ী নির্ধারণ করা খুব কঠিন। প্রথম আলো এ ধরনের আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। বিতর্কের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কতিপয় গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে—এটা যেমন সত্য, তেমনি স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করছে—এটাও সত্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইউডিএসের সভাপতি রায়হান শানন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল কবির।